জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:

বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে গত ১০ দিন ধরে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রলার ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও জরুরি প্রয়োজনে মূল ভূখণ্ড টেকনাফে এসে আটকে পড়েন প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের শতাধিক বাসিন্দা। টেকনাফের বিভিন্ন হোটেল ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দীর্ঘদিন অবস্থান করার পর তীব্র আর্থিক সংকট ও ঘরে ফেরার আকুলতায় শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ফিরতে বাধ্য হয়েছেন তারা। একই ট্রলারে করে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের জন্য ত্রাণসামগ্রীও পাঠিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট থেকে অন্তত ১৪০ জন যাত্রী নিয়ে একটি কাঠের সার্ভিস ট্রলার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। বর্তমানে সেন্ট মার্টিন ও উপকূলীয় এলাকায় অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে উত্তাল সাগরের ঢেউ ট্রলারটিকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে জেনেও, অনেকটা ভাগ্যের ওপর ভরসা করেই ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা। একই ট্রলারে করে ৩০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ত্রাণসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে। দ্বীপে বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর বঙ্গোপসাগর থেকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত প্রত্যাহার করায় এবং সাগর কিছুটা শান্ত হওয়ায় আটকে পড়া সেন্ট মার্টিনবাসীদের ট্রলারে করে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি একই ট্রলারে করে দ্বীপের বন্যাকবলিত ৩০০ পরিবারের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।